বিচার হবে মাদক মামলায় পরীমনি অভিযুক্ত,

বিচার হবে মাদক মামলায় পরীমনি অভিযুক্ত,

এ মামলায় অভিযুক্ত অপর দুই আসামি হলেন- পরীমনির খালু কবীর হোসেন জমাদ্দার ও পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু।

পরীমনি ও কবীরের পক্ষে তাদের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতে অব্যাহতির আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। দীপুর আইনজীবী আখতারুজ্জামান হিমেল হাই কোর্টে ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে অব্যাহতির শুনানি হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু অভিযোগ গঠনের আর্জি জানিয়ে শুনানিতে বলেন, “আসামিরা পরস্পর যোগশাজসে ২ লাখ ১১ হাজার টাকার সমমানের বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি সংরক্ষণ করেন। র‌্যাব তল্লাশি করে পরীমনির বাসা থকে এসব মাদক উদ্ধার করে। আসামিপক্ষ পরীমনির মদ খাওয়ার লাইসেন্সের কথা বললেও তার মেয়াদ আগেই বাতিল হয়ে গেছে।”

অভিযোগপত্রে বর্ণিত মাদকের তালিকা ও পরিমাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অপরাধ করেছেন আসামিরা। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগ গঠন করা যেতে পারে।”

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অব্যাহতির আবেদনের শুনানিতে বলেন, “মাদক ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়নি। র‌্যাব পরীমনির ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে অস্বাভাবিক, ভীতিকর ও অসুস্থ একটি পরিস্থিতি তৈরি করলে পরীমনি ফেইসবুক লাইভে যান।

“জব্দ তালিকায় বলা হচ্ছে সাক্ষীদের সামনে এ কথিত মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ ১৬১ ধারায় যাদের ঘটনার সাক্ষী হিসাবে দেখানো হয়েছে সেখানে কোনো পাবলিক সাক্ষী ছিল না। সেখানে সাধারণের কোনো

আইনজীবী সুরভী শুনানিতে বলেন, “জব্দ তালিকা ও পরীমনির ঘরে র‌্যাবের প্রবশের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। আর কবীর হোসেন জমাদ্দার তার আত্মীয়,… পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে ওই দিন ঘটনার অনেক পরে ঢাকায় এসেছিলেন। তার কোনো সম্পৃক্ততা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারবে না। সুতরাং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হোক ।“
এ সময় বিচারক বলেন, আইনজীবীর এ বক্তব্য ‘ফ্যাক্টস ও এভিডেন্সের ওপর, ল পয়েন্টের ওপর নয়’, সুতরাং অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন করা হবে।

 

এরপর বিচারক আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান। তাতে মাদকের শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করা হয় এবং মাদক পরিবহনে পরীমনির গাড়ির কথা বলা হয়। কবীর হোসেন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামিরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

বিচারক ১ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রাখার কথা বললে পরীমনির আইনজীবী আপত্তি জানান। তিনি বলেন, পরীমনি চট্টগ্রাম যাবেন, শুটিং আছে। শিডিউল বদলানো কঠিন, দুই মাস পরে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ দেওয়া হোক।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাতে আপত্তি আসে। বিচারক আসামিপক্ষের কথায় সায় না দিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করেন।

আসামিদের আইনজীবী আগের শর্তে আসামিদের জামিন চাইলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। জামিনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো বিরোধিতা করেননি।

শুনানির শুরুতে এজলাসে এসে পরীমনি বলতে থাকেন- তিনি অসুস্থ। কাঠগড়ায় দাঁড়াতে ‘কষ্ট হচ্ছে’ বললে তাকে বসতে টুল দেওয়া হয়।

শুনানির পর পরীমনি তার আইনজীবীকে বলেন, “আমার বমি পাচ্ছে। বমি করার সুযোগ দেন।”

অবশ্য পরে কোনো জটিলতা ছাড়াই তিনি নিজের গাড়িতে করে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন।

গত ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের পর পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে এ মামলা করা হয়। র‌্যাবের জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।
পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনির ফ্ল্যাটে ‘মিনি বার’ ছিল। তিনি নিয়মিত মদ পান করতেন এবং ‘ঘরোয়া পার্টি’ আয়োজন করতেন। তার কাছে মদ ব্যবহারের একটি
নড়াইলের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতির ২০১৫ সালে ঢাকার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পরীমনি নামে। এরপর দুই ডজন চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্র রূপায়ন করেছেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে ঢাকা বোট ক্লাবে যৌন নিপীড়িত হওয়ার অভিযোগ তুলে শোরগোল তুলেছিলেন পরীমনি। তার করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *