খাগড়াছড়ির ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণে চলছে রমরমা ব্যবসা

Ctg news,ctg news24,Chattogram news,bd news,bd news24,bd breaking news,

মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ(খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি)

পার্বত্য জেলা  খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার ২নং কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। রেশনের খাদ্যশস্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

 যখনই  কোন জনপ্রতিনিধিকে রেশন বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয় তখনই আলোচনায় আসে এমন সব অনিয়মের খবর। গুচ্ছগ্রাম সৃষ্টির পর থেকেই এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক, তবে আজ অবধি এমন  বিতর্কের হয়নি কোন  সুষ্ঠু সমাধান। 

রেশনকার্ড ভোগীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট  ইউপি সদস্য আবু তালেব। সভাপতি মনোনীত হবার পর প্রথমবার রেশন বিতরণ করতে গিয়েই তার বিরুদ্ধে  অভিযোগ উঠে ৪১২ জন রেশন কার্ড ধারীর জন্য বরাদ্ধকৃত সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য তিনি রেশন বিতরণ কেন্দ্রে আনেন নাই।  

প্রায় তিন চতুর্থাংশ খাদ্যশস্যই বিক্রি করে দিয়েছেন কালোবাজারে। এই গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারী ৪১২ জন। সরকারিভাবে প্রতিজন কার্ডধারীর জন্য প্রতিমাসে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৫.৯৫ কেজি চাল ও ৪৯.১০ কেজি গম। আর এসব খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয় তিন মাস পর পর। চলতি বছরের এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের রেশন বিতরণ করা হয়েছে দু’দিন আগে।

 ১১জুন বিকেলে ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম একেবারেই শেষ পর্যায়ে। বিকেল ৪টায় বিতরণ রেজিস্টারে দেখা যায় ওই গুচ্ছগ্রামের ৪১২ জন কার্ডধারীর মধ্যে ৩৭০জন কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য চাল ও গম বুঝে নিয়ে গিয়েছেন। বাকী ছিলো মাত্র ৪২ জন। তবে ওই সময় বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্যশস্য মজুদ ছিলো আরও অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জনের।

ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন  কমিটির সদস্য সচিব ও বেশ ক’জন সদস্য জানালেন, রেজিস্টারে যে ৩৭৪ জন কার্ডধারী খাদ্যশস্য গ্রহণ করেছেন বলে দেখানো হয়েছে তা কেবলই কাগজে-কলমে। বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আসলে প্রায় ৭৫ শতাংশ কার্ডধারীর কাছ থেকে কেবল টিপসই আর স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, 

ওদের কোন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়নি। তবে বিতরণ কেন্দ্রের সামনে চায়ের দোকানে বসে সেসব কার্ডধারীদের খাদ্যশস্যের বদলে দেয়া হয়েছে নগদ অর্থ। অর্থাৎ বেশীরভাগ কার্ডধারীর কাছ থেকে খাদ্যশস্য কিনে নিয়েছেন সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য আবু তালেব।

কমলছড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের স্কুলটিলা এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল (কার্ড নং-২৯৭) এবং ৬নং ওয়ার্ডের আমিন উদ্দিন টিলা এলাকার বাসিন্দা মো. কাবেল উদ্দিন (কার্ড নং-২১৩) জানান, তাদেরকে রেশনের পরিবর্তে নগদ টাকা দিয়েছেন রেশন বিতরণ কমিটির সভাপতি আবু তালেব। 

প্রতি কেজি চালের পরিবর্তে ৩৫ টাকা এবং প্রতি কেজি গমের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ১৯ টাকা করে।ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব ও ইউপি সদস্য কাবেল হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্যশস্য আনা হয়েছে মাত্র ২৬ টন, যেখানে ৪১২ জন কার্ডধারীর জন্য তিন মাসের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের পরিমাণ ছিলো প্রায় ১০৫ টন।’

অভিযোগের সূত্র ধরে বিতরণ কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য আবু তালেবকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে  এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিতরণ কেন্দ্রে কেবলমাত্র ২৬ টন খাদ্যশস্য আনা হয়েছে ।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে সভাপতি আবু তালেব জানান, বাকী ৭৯ টন খাদ্যশস্য শুক্রবার সকালে খাদ্যগুদাম থেকে এনে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আবু তালেবের এমন বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া যায়নি সদর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক সুখী প্রিয় চাকমার দেয়া তথ্যের। 

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক সুখী প্রিয় চাকমা বলেন, ‘শুক্রবারে আমি ছুটিতে ছিলাম, ওইদিন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু তালেবকে কোন খাদ্যশস্য দেয়া হয়নি। এর আগেই অর্থাৎ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার গুদাম থেকে বরাদ্দের চাল ও গম বুঝে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। আবু তালেব কেন ভুল তথ্য দিয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়।

রেশন বিতরণে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সাফাই গাইলেন আবু তালেবের পক্ষে। তদারকির দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিপেন্দু চাকমা বলেন, ‘আমি যতক্ষণ বিতরণ কেন্দ্রে ছিলাম ততক্ষণ কোন অনিয়ম চোখে পড়েনি। ২৬ টন খাদ্যশস্য এনে ১০৫ টন কীভাবে বিতরণ করলেন, এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর মেলেনি ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।  সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.