পুকুর খননে পুকুর চুরি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা,মাটিরাঙ্গা উপজেলা,খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়, Chattogram news,bd news,ctg news,bd news24,bd news today,

মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ(মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি)

পুকুর চুরি শুধু পুস্তকে নয়। একেবারে দৈত্যাকার মূর্তি নিয়ে হাজির ঘরের দরজায়। তাও আবার মসজিদের পুকুরে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার  মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন গুমতি ইউনিয়নের  গরগরিয়ায় মসজিদের পুকুর খনন ও ঘাটলা নির্মাণের নামে এমনই প্রহসনের ঘটনা ঘটে চলছে।

 মসজিদের নামের প্রকল্প টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে দেয়া ও কন্ট্রাক্টরের যেনতেনভাবে কাজ করে বিল উঠিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় সাধারণ মুসল্লীসহ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্প জালিয়াতির এমন খবরে পুরো  উপজেলা জুড়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। 

এলাকা বাসী ও মসজিদ কমিটির সাথে আলাপকালে জানা যায়, বছর তিন/ চারেক  আগে স্থানীয় সরকার  প্রকৌশল অধিদপ্তরে মসজিদের পুকুর খনন ও ঘাটলা  নির্মাণের জন্য গরগরিয়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রকল্প আসতে দেরি হওয়ায় মসজিদ কমিটি ভিন্নভাবে কাজটা করে ফেলে। 

সম্প্রতি প্রকল্পটি চলে আসায় এটি যাতে ফেরত না যায় সেই লক্ষ্যে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার একটা সমঝোতায় পৌঁছায়। সমঝোতা মোতাবেক  মসজিদের পার্শ্ববর্তী প্রবাসী শহিদুল ইসলাম বাবুলের  মালিকানাধীন দুই একর মাছ চাষের অগভীর ডোবা জমিনকে বাড়িতে থাকা ছেলে গোলাম কিবরিয়ার সাথে কথা বলে পুকুর খননের জন্য বেছে নেয়। গোলাম কিবরিয়াকে বলা হয়, এল জি ই ডি থেকে পুকুর খনন ও ঘাটলা নির্মাণের একটা প্রকল্প এসেছে – তোমার কোন টাকা পয়সা লাগবেনা। 

তোমার জায়গায় আমরা কাজটা করে দেব কোন খরছ ছাড়াই। লোভে পড়ে গোলাম কিবরিয়া রাজি হয়ে যায়। যথারীতি কাজ শুরু হয়ে যায় কিবরিয়াদের জায়গায়। ইতোমধ্যে মসজিদের পুকুর কিবরিয়াদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় খনন শুরু হওয়ায় সচেতন  মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মুসল্লিদের কথা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমলে না নেওয়ায় তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দেয়। তখনই কাজ শুরুর তিন-চার দিনের মাথায় আকস্মিকভাবে সাব কন্ট্রাক্টর কাজ বন্ধ করে দেয়। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এখন কাজ শেষ না করে দেন-দরবার করে কাজের বিল উঠিয়ে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে সাব কন্ট্রাক্টরসহ মেম্বার চেয়ারম্যান ও এল জি ই ডির কর্মকর্তাদের একটি পক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসল্লি বলেন,সার্ভে করা হয়েছে এক জায়গায়, পুকুর কাটা হচ্ছে আরেক জায়গায়। মসজিদের পুকুর কিবরিয়াদের জমিতে করে মসজিদের লাভ কী ? সভাপতি-সেক্রেটারি ও নেতাদের পকেট ভরবে শুধু। 

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ফজল ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলেরা এ বিষয়ে তাকে কোন কথা বলতে দেননি। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম হোসেন বলেন, এল জি ই ডি থেকে কয়েক বছর আগে সার্ভে করতে আসে।  তখন আমরা তাদেরকে মসজিদের পুকুরের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কথা বলেছি। তারা একটা দরখাস্ত লিখে নিয়ে আসে। আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেছে – আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি। 

কী লেখা ছিল সেটাতো আমি জানিনা। আমিতো বাবা পড়ালেখা জানিনা। কমিটির সভাপতি আরো বলেন, কিবরিয়া মসজিদকে জমিটা ওয়াকফ করে দিবে বলেছে, তবে লেখালেখি এখনো হয়নি। স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মিয়াকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

জমির মালিকের ছেলে গোলাম কিবরিয়া বলেন,  মসজিদের সভাপতি- সেক্রেটারি একদিন  আমাকে ডেকে বলেন, তোমার জায়গায় একটা পুকুর কেটে দেবো। তোমার কোন টাকা পয়সা লাগবেনা। এখন মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, জায়গাটা আমরা মসজিদকে দান করে দিয়েছি। একথা শুনে আমার বাবা বিদেশে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কারণ এটাই আমাদের একমাত্র কৃষি জমি। 

জমির মালিক আমার বাবা। আমিতো মসজিদকে জমি দেওয়ার কেউ নই। মসজিদের নাম করে আমাদের একমাত্র  জমিটুকু কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটা নিয়ে আমরা এখন সামাজিকভাবে খুবই সমস্যায় আছি। সাব-কণ্ট্রাক্টর কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা কাজ কিনে নিয়েছি। আমাদেরকে কমিটি যেখানে দেখিয়ে দিয়েছে সেখানে কাজ করেছি। আমাদের কাজ প্রায় নব্বই শতাংশ শেষ। 

মাটিরাঙ্গা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ককর্মকর্তা  রামগড় উপজেলা প্রকৌশলীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.