ঢাকাSaturday , 23 January 2021

দ্বিগুণ ফি দিয়েও চট্টগ্রামে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভোগান্তি হচ্ছে রোগীর ctg news

Link Copied!

★ভোগান্তি বিষয় টা নতুন নয়,আগেও ছিল তবে মহামারী আসার পর থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের চট্টগ্রাম রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রীতিমতো কষ্ট স্বীকার  হতে হচ্ছে সকল রোগীদের।বিভিন্ন বাঁধা পার করে সকাল থেকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে সকল রোগীদের ডাক্তার পরামর্শ নেওয়ার জন্য। অথচ ডাক্তার রোগী দেখবে বিকাল তিনটার পর।

ডাক্তারের সহকারীদের কথা মূখে সব সময় লেগে থাকে। এখন ডাক্তার ১০ থেকে ১৫ জনের বেশি রোগী দেখবেন না।তবে  কোন কোন ডাক্তারের সহকারী আছে যাদের পকেটে কিছু টাকা দিলে অতি সহজেই সিরিয়াল মিলে যায়।

এই দিকে সিরিয়াল নিয়ে যত ধান্দা বাজী এর পাশাপাশি চলছে ডাক্তারের ফ্রি নিয়ে অনেক কাহিনি। আগের চেয়ে প্রায় ২ গুণ বেড়ে গেছে এখন ফ্রি।

পরিপাকতন্ত্রের,মেডিসিন এবং লিভার বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রাম নামি ডাক্তার হলেন,ড. শামীম বক্সের।তিনি শনিবার থেকে মঙ্গলবার রোগী দেখেন চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালে। তিনি রোগী দেখা শুরু করেন ১১ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা। শুক্রবার থেকে এটি জন্য সিরিয়াল দেওয়া হয় রোগীদের।

এছাড়া তিনি সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন সিএসসিরে চট্টগ্রামের অন্য এক বেসরকারি হাসপাতালে। সকল ১১.৩০ থেকে দুপুর ২.৩০ পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি।সোমবার সকল ৬ টায় সিরিয়াল নিত হয় মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে  দেখা করার জন্য। তাছাড়া তিনি সিরিয়াল নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন,ঐ ওয়েবসাইট রয়েছে সকল নিয়মকানুন। drshamimboksha.com গেলে সিরিয়াল নেওয়া যাবে।

তাছাড়া আরো জানা গেছে,ডাক্তারের ওয়েবসাইট থেকে একটি মোবাইল ফোন নাম্বারের মাধ্যমে সিরিয়াল তালিকাভুক্ত করতে হবে একটি নাম্বার দিয়ে।এর নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ের মধ্যে তার ফার্মেসিতে গিয়ে সিরিয়ালের একটা কপি সংগ্রহ করতে হবে এবং ওখানে ২০০ টাকা নিয়ে দিতে হবে।

ঐ দুইশ টাকা ফেতর দেওয়া হবে, ডাক্তার দেখানোর পর তার দেওয়া ঔষধ ঐ ফার্মেসি থেকে খিনলে।অনেক রোগী অভিযোগ করছে ঐ ফার্মেসি থেকে যদি ঔষধ খিনা না হয় তাহলে রোগীদের ২০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় না।তবে ফার্মেসির সাথে জড়িত একজন বলেন এটি আগে ছিল এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ সমালোচনা কারণে এই রকম এখন নেওয়া হয় না।

ডা. শাহানারা চৌধুরী রোগী দেখেন,চট্টগ্রামের বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।সিরিয়াল নেওয়ার জন্য বেলভিউ ডায়াগনস্টিকের রিসিপশন ডেস্ক একটি নির্দষ্ট নাম্বারে কল করতে হয়।সহকারী যাবতীয় সমস্যা কথা জিজ্ঞেস করে থাকে।তার পর সকল কিছু জানার পর বলে বিকেলে কল করতে।তিনি আরো বলেন রোগীর যাবতীয় সমস্যা কথা  শুনার পর ড.শাহানারা রাজী হলে ঐ রোগীকে নগরীর জিইসি বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীকে হাজির হতে হবে ১০ মিনিট এর মধ্যে। বর্তামানে ঐ ডাক্তারের ফ্রি হলো দুই হাজার টাকা।এর আগে ফ্রি ছিল ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা।

অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার দত্ত রোগী দেখেন কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে।তিনি হলেন সাবেকচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তার থেকে কোন রোগী দেখাতে হলে ফোন করে সিরিয়াল নিতে হয় সকলা সাতটার মধ্যে,এবং তিনি রোগে দেখেন সোমবার এবং বুধবার দুপুর তিন টা থেকে।সিরিয়ালের জন্য ফোনে যোগাযোগ করলে তা সহকারী সিরিয়াল নাম্বার দেন।তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন ১০ থেকে ১৫ জনের মত

এছাড়া তার আগের ফ্রি ছিল ৩০০ টাকা তার থেকে বেড়ে এখন ৪০০ টাকা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. এমএ হাসান চৌধুরী রোগী দেখার জন্য বসেন শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন রোগী দেখেন।এছাড়া তিনি সিরিয়াল নেন শনিবার ও মঙ্গলবার। রোগীরা জানিয়েছেন শনিবার এবং মঙ্গলবার বিশেষ একটি মেবাইল নাম্বার কল করে সিরিয়াল নেওয়া হলে,ও এখন সেই নাম্বার খোলা পাওয়া যায় না।

ডায়াবেটিক ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন খান বসেন সিএসসিআর হাসপাতালে। জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ফোনে সিরিয়াল নেওয়ার জন্য যে মুঠোফোন নম্বরটি নির্ধারিত আছে, তা সকাল ১০টা থেকে সোয়া দশটার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কেউ সিরিয়াল পাই আবার কেউ পাই।কিন্তু তার সহকারীকে অতিরিক্ত টাকা দিলে সবার সিরিয়াল পাই এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. একে খন্দকার আজাদ রোগী দেখেন একই হাসপাতালে। শনিবার ও মঙ্গলবার তিনি রোগী দেখেন সকাল ৯টা থেকে। তার সিরিয়াল নিতে ফোন করতে হয় সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০-এর মধ্যে। জানা গেছে, এছাড়া দশ মিনিটের বিতরে সিরিয়াল শেষ হয়ে যায়।আগে তিনি ফ্রি নিতেন ৮০০ টাকা করে তবে বর্তমানে ফ্রি নিচ্ছেন ১২০০ টাকা করে।

ডাক্তারের সিরিয়াল ও ফি নিয়ে রোগীদের মহামারী দুর্ভোগের চিত্র এমনটাই। অনেক সময় ডাক্তারের সহকারীকে বাড়তি টাকা ঘুষ দিয়ে সিরিয়াল মিললেও কোন ডাক্তারের সেটিও মিলছে না। প্রতিদিন সকল অসুস্থ রোগীদের ভাল চিকিৎসা পাওয়া জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে 

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, সামান্য, জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত না। কিন্তু তা না করে ভোর রাতে বা নিশিরাতে রোগীর সিরিয়াল নিয়ে কোন রোগীর সাথে এই রকম ভাবে তামাশা করা কোন ভাবে ঠিক না।এই বিষয় নিয়ে  বিশেষজ্ঞদের একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসতে হবে যত তারাতাড়ি পারা যায়।

chattalainfo24 Bengali NewsPaper in chattogram brings latest bangla news headlines, breaking news in bangla on Chittagong News, Cox's Bazar News, Chittagong hill tracts News, Politics, Business, education,Cricket from Bangladesh and around the World